নবীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির পাশের বাগান থেকে জামাইয়ের গাছে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • আপডেট টাইম : October 19 2021, 19:04
  • 16 বার পঠিত

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সারং বাজার এলাকায় আব্দুল সামাদ (৩০) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশের বাগান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তার ভাই আব্দুল করিম জানান, আব্দুস সামাদ দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা বেগমকে নিয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়ার জের ধরে সম্প্রতি স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে এসে আব্দুল সামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
প্রথম স্ত্রী ও এক সন্তান থাকার পরও আব্দুস সামাদ প্রেমে পড়ে সালমা বেগমকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারে মামলা চলছিল।
তার ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন আব্দুস সামাদকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে।
সালমা বেগম জানান, তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল অনেকদিনের। তারা পালিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন; কিন্তু তার পিতা ফরাস মিয়া বাদি হয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা দুজন একমাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করেন।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে আব্দুস সামাদ তাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন; কিন্তু শ্বশুর পরিবার টাকা দিতে না পারায় স্বামী তাকে মারপিট করেন। খবর পেয়ে তার পরিবার তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে মামলাও করে। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
মঙ্গলবার ভোরে তাদের বাড়ির পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আব্দুস সামাদের মরদেহ দেখতে পাওয়া যা। তার ধারণা, কেউ তাকে হত্যা করে তাদেরকে ফাঁসাতে তাদের বাড়ির পাশে গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।
সোমবার চট্টগ্রাম থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে এলাকায় চলে আসেন আব্দুস সামাদ। তবে এলাকার কারো সঙ্গে তার দেখা হয়নি।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, আব্দুল সামাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।